মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর, ২০২১

কষ্টের পর সুখ

 

ছাদে দাঁড়িয়ে আছি একা চারিদিক অনেক হইহুল্লোড় আর আমাদের বাড়িটা অনেক সুন্দর করে সাজানো বিভিন্ন রং বেরঙের আলো দিয়ে।প্রথমে আমার পরিচয় দিয়ে নেই আমি আকাশ কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে এখন একটি প্রাইভেট কম্পানিতে ভালো পদে চাকরিরত আছি এবং পাশাপাশি নিজস্ব একটি শীল্পকলা একাডেমী পরিচালনা করি বলে রাখা ভালো আমি একজন নৃত্যশিল্পী। আমার পরিবারে আছে বাবা-মা আর ছোট বোন আণিকা। আর এই বাড়ি সাজানোর কারণ আজকে আমার বিয়ে।

হ্যা আজকে আমার বিয়ে এ কথাটি বলতে যতটা সহজ লাগছে কিন্তু এটা মানতে অনেক কঠিন লাগছে আমার কাছে।

আপনারা ভাবছেন যে কেনো আমার

এমনটা মনে হচ্ছে।কারণ আমার জীবনে

এখন আর কোনো মেয়েকে বিশ্বাস করতে

মন চায় না।আমার মনে পড়ে যায় সেই পুরানো দিনের কথা যার কারণে আজ

আমার এমন মনে হয়।চলুন আপনাদেরকেও

বলি আমার সেই অতীতের কথা।

১০বছর আগে আমি যখন এস.এস.সি

পরীক্ষা দিয়ে ছুটিতে অবসর সময় কাটাই

তখন আমাদের শিল্পকলা একাডেমী থেকে

যাই একটি প্রোগ্রাম করতে। তখন অন্য আর একটা একাডেমী আসে সেখানে নৃত্য করতে।

তাদের সাথে আমাদের সবার খুব ভালো সম্পর্ক হয়ে যায় এবং তার ভিতরে জেসী নামের একটি মেয়ের সাথে আমার পরিচয় হয়। জেসী ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল এবং ও খুব চঞ্চল প্রকৃতির মেয়ে

ছিল।সম্পুর্ণ প্রোগ্রামটা ও সবাইকে মাতিয়ে রেখেছিলো।প্রোগ্রাম শেষে যার যার গন্তব্যে ফিরে আসলাম।আসার সময় জেসী আমাকে

ওর আম্মুর নাম্বার দিলো আর আমার নাম্বার নিলো যোগাযোগ করার জন্য।এরপর আমার এস.এস.সি পরীক্ষার

রেজাল্ট দিলো আর আমি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হলাম কম্পিউটার

নিয়ে।এরপর থেকে নিজের পড়শোনা নিয়ে

ব্যস্ত হয়ে পড়লাম আর জেসীর সাথে মাঝে মাঝে সু্যোগ হলে কথা বলতাম কারণ ওর নিজস্ব কোনো ফোন ছিল না।একদিন আমি কলেজ দিয়ে বাসায় আসতেছি তখন আমার

ফোনে অচেনা নাম্বার থেকে কল আসে

এরপর কল রিসিভ করতে ওপাশ থেকে বলে ও জেসী আর এটা ওর নিজস্ব নাম্বার।এরপর থেকে আমাদের প্রতিদিন কথা হত আর আমরা একই শহরে থাকি তাই আমরা প্রায়ই দেখা করতাম।আমরা একে অপর এর সব মনের কথা শেয়ার করতাম।আমরা খুব ভালো বন্ধু হয়ে যাই।কিন্তু কেউ একজন বলেছেন যে একটি ছেলে আর একটি মেয়ে কখনোই বন্ধু হয়ে থাকতে পারে না।আমার ব্যাপারেও ঠিক এমন হল আমি ওর প্রতি দূর্বল হয়ে পড়ি।

কিন্তু কিছুই বলতে পারতাম না যদি আমাদের এই বন্ধুত্বটা নষ্ট হয়ে যায়।

কিন্তু নিজেকে আর আটকাতে পারলাম

না একদিন বলেই ফেলি অকে আমার

মনের কথাগুলি আর ভেবেছিলাম যে

ও আমার থেকে দূরে সরে যাবে কিন্তু

না ও আমাকে মেনে নেয়।এরপর থেকে

আমাদের একসাথে পথচলা।এভাবে

আমাদের ভালোবাসা ৬মাসে পুর্ণ হয় কিন্তু

ইদানিং জেসী আমাকে ইগনোর করতে থাকে আমাকে ঠিকমত ফোন দিত না আর শুধুই ব্যস্ততা দেখাত বলত পড়াশোনার চাপ অনেক আমিও কিছু বলতাম না।কিন্তু কিছুদিন যাবৎ রাতের বেলা ওকে ফোন দিলে কল ওয়েটিং এ পাওয়া যায়

এত রাতে কার সাথে কথা বলে জানতে

চাইলে বলে বান্ধবীর সাথে কথা বলে।

আমিও বিশ্বাস করে নেই তারপরেও মনে

খটকা লাগে যে প্রতিদিন এত রাতে ওর

বান্ধবী কেনো কথা বলবে। এরপরে আমি ওর সাথে দেখা করি আর এই বিষয়ে আবার বলি প্রথমে এড়িয়ে

যায় কিন্তু যখন অনেক জোর করি তখন

বলে দেয় সত্যিটা

আমিঃ তুমি এত রাত্রে কার সাথে কথা এত যে আমি তোমাকে ফোন দিলে তোমার নাম্বার

ওয়েটিং এ থাকে কেনো?

জেসীঃ তোমাকেত আগেই বলেছি আমার বান্ধবীর সাথে কথা বলি।

আমিঃ তাই বলে এত রাতে বান্ধবীর সাথে কি কথা থাকে তোমার?নাকি অন্য কারো সাথে

কথা বল?

জেসীঃ আমি আমার বান্ধবীর সাথে কথা

বলি আর কার সাথে কথা বলব।

আমিঃ একদম মিথ্যা কথা বলবা না

আমি কিছু বুঝি না।তুমি অন্য ছেলের সাথে

কথা বল আর আমাকে বলছ বান্ধবীর সাথে

কথা বলি।কেনো এমন বলছ বল?

জেসীঃ হ্যা আমি অন্য ছেলের সাথে কথা বলি কারণ সেই ছেলের বাবা অনেক বড়লোক অনেক টাকার মালিক।তোমার মত ওমন গরীব না।অনেক গিফট দিছে আমাকে আর তুমি কি দিছ আমাকে এই পর্যন্ত।

আমিঃ তুমি শুধু ওই ছেলের দামী গিফট এর দিকটাই দেখলে আমার এই ভালোবাসা টা দেখলে না।

জেসীঃ তোমার ভালোবাসা তোমার পকেটে রাখো।এখন আর ভালোবাসা দিয়ে কিছু হয় না।আর আমার সাথে তোমার যোগাযোগ না রাখলে ভালো হয়।

এই বলে ও চলে যায় এরপর থেকে ওর সাথে আমার আর কোনো যোগাযোগ হয় নাই।আর নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চিন্তা করি কিন্তু আমার যে পরিবার আছে মা-বাবা আর ছোট বোনের দিকে চেয়ে আর কিছু করতে পারি নি।

এরপরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য পড়াশোনায় মন দেই এবং আজ আমি

প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছি।কিন্তু সেই থেকে আমি আর কোনো মেয়েকে বিশ্বাস করতে পারি না সবাইকে মনে হয় জেসীর মত

লোভী।

এখনো পর্যন্ত দাঁড়িয়ে আছি ছাদে রাত কয়টা বাজে তার কোনো খেয়াল নাই আমার।বিয়েটা করার কোনো ইচ্ছাছিল না কিন্তু পরিবারের জোরাজোরির কারণে করতে হল।

হঠাৎ কারো হাতের স্পর্শ আমার পিঠে টের পেলাম

ঘুরে দেখি আমার ছোট বোন আণিকা

আমিঃ কিছু বলবি?

বোনঃ আব্বু তোমাকে নিচে ডাকছে ভাইয়া।

আমিঃ আচ্ছা তুই যা আমি আসছি।

বোনঃ নাহ আব্বু তোমাকে সাথে করে নিয়ে যেতে বলেছেন।সব মেহমানরা আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছেন আর ওই দিকে ভাবি ঘরে একা বসে আছে তুমি চলো।

আমিঃ আচ্ছা চল।

এরপর ওর সাথে নিছে আসলাম দেখি আব্বু আর আম্মু তাদের ঘরে বসে আছেন।আমি গিয়ে আব্বুকে বললাম

আমিঃ আব্বু ডাকছিলেন?

আব্বু- হুম ঘরে বউমা একা আছে আর তুমি ছাদে এতখন কি করছিলে যাও নিজের ঘরে যাও।

আমিঃ আচ্ছা আব্বু যাচ্ছি।

কোনো উপায় না পেয়ে ঘরে যাই।যেয়ে দেখি আমার খাটে অন্তরা বসে আছে(হ্যা আমার স্ত্রীর নাম অন্তরা যে আমার আইনত স্ত্রী কিন্তু আমার মনের স্ত্রী না) সে আমার উপস্থিতি টের

পেয়ে খাট থেকে নেমে এসে আমার পায়ে ছুয়ে সালাম করল আমি তাকে বাধা দিয়ে বলি

আমিঃ আপনাকে আমি আমার স্ত্রী হিসাবে মানতে পারব না সুতরাং আমার থেকে কোনো অধিকার আদায় করার চেষ্টা করবেন না।আপনি খাটে ঘুমান আমি নিচে ঘুমাচ্ছি।

এই বলে বালিশ নিতে যাব তখন সে বলে উঠে

অন্তরাঃ সেটা না হয় হল কিন্তু আমাদের এই পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য মহান আল্লাহ তা আলা কে শুকরিয়া করে নামাজ আদায় করি আপনি ওযু করে আসুন।

আমিও তার কথামত ওযু করে দুই জনে

নামাজ আদায় করে ঘুমায় যাই সকালে

অন্তরা ডাক দিল আমাকে ফযরের নামাজ

আদায় করার জন্য আমি মসজিদ থেকে

নামাজ আদায় করে এসে দেখি ও আম্মুর

সাথে রান্না করছে।আমি আমার ঘরে এসে

শুয়ে থাকি কিছুক্ষণ পর ও এসে আমাকে

ডেকে নিয়ে যায় নাস্তা করতে।এরপর আমার অফিস থেকে এক সপ্তাহের ছুটি নেই যার কারনে আমার অফিস ছিল না তাই বাইরে থেকে ঘুরে আসি এভাবে এক সপ্তাহ কেটে গেলো অন্তরার সাথে আমার প্রয়োজন ছাড়া বেশি কথা হত না।কিন্তু ও আমার সব দিকে খেয়াল রাখত আর বাসার সব কাজে আম্মুকে ও সাহায্য করত। এরপর আমার ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় আবার অফিসে যেতে

হয়।প্রতিদিন আমাকে ঠিক সময়ে অফিসে পাঠানো আমি দুপুরে খেয়েছি কিনা নামাজ পরেছি কিনা সবদিকে খেয়াল নিত আমি না খেলে ও খেত না আমার জন্য ও অপেক্ষা করত রাতের বেলা একসাথে খাবে তাই।এভাবে চলতে থাকে আমাদের দিন।

কিন্তু একদিন আমি অফিস থেকে ফেরার

পথে আমার বাইকের সাথে একটি বাসের ধাক্কা লাগে এরপর কি হয় আমি কিছু জানি না।যখন আমার জ্ঞান ফেরে তখন দেখি আমি হাসপাতালের বেড এ শুয়ে আছি আমার শুধু মাথা ফেটে যায় আর হাত ভেঙে যায় এবং অনেক যায়গা কেটে যায়।পাশে তাকায় দেখি আব্বু-আম্মু,আণিকা আর অন্তরা বসে আছে।আমার জ্ঞান ফিরেছে দেখে আব্বু-আম্মু আর আণিকা বাইরে

চলে গেলো শুধু অন্তরা আমার পাশে বসে কান্না করে যাচ্ছে এখনো।

আমি ওকে ডেকে বললাম

আমিঃ এত কান্না করছ কেনো আমার ত কিছু হয় নাই।আমি ত ভালো আছি।

অন্তরাঃ আপনার যদি কিছু হয়ে যেতো

তাহলে আমি কি নিয়ে বাচতাম।

আমিঃ কেনো আমার এই সম্পত্তি এসব ত তোমার জন্য আছে আমি না থাকলে এসব নিয়ে থাকবে তুমি।

অন্তরাঃ আমার এসব লাগবে না আমার শুধু আপনাকে চাই। আপনার সাথে সারাজীবন

থাকতে চাই।

এই বলে আমার বুকে মাথা রেখে কান্না করতে লাগল আর আমিও ওকে এক হাত দিয়ে আরো কাছে টেনে নিলাম।আর ভাবতে লাগলাম যে আমিই এতদিন ভুল ছিলাম

সব মেয়ে এক না কেউ কেউ ভালোবাসতেও জানে।আর ভাবতে লাগলাম জেসীর কথা

যে ভালোবাসা দিয়ে কিছু হয় না টাকাপয়সাই সব কিছু। হ্যা বুঝতে পারলাম ভালোবাসা দিয়েই অনেক কিছু হয় টাকাপয়সা দিয়ে নয়।

[[প্রিয় পাঠক, গল্পটি কেমন লাগলো, ভালো/মন্দ তো কমেন্টস করে জানাতে হবে তাইনা?

না জানালে তো ভালো কিছু লেখার উৎসাহ পাইনা। কেমন লাগলো অবশ্যই সবাই জানাবেন।

আপনাদের প্রতিটি কমেন্টস আমার আপনাদের জন্য লেখার এক একটি অনুপ্রেরণা।

গল্পটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন। ধন্যবাদ।]]...

সমাপ্ত.........


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: