সর্বশেষ

বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২২

প্যারাসিটামল কবিতা লেখক গোলাম মোস্তফা ঈসা

প্যারাসিটামল কবিতা লেখক গোলাম মোস্তফা ঈসা

 



আমি বড়ো স্বার্থপর জানো,

আমি চাই,তুমি আমার সাথে থাকলে
তোমার মাঝে মাঝে জ্বর হোক
শরীরের উত্তাপ মাপার অছিলায়
বেশ তোমার কপাল,ঘাড়,গলা ছোঁবো
তুমি কি ধরে ফেলবে আমার অভিসন্ধি?
সরিয়ে দেবে হাত?
নাকি সবটা ধরার পরেও আস্কারা দেবে চোখে?
ফাটাফুটি ঠোঁট নিয়ে কাটাকুটি খেলবে? বলো
তারপর এই ধরো,জ্বরের ঘোরে মাঝরাতে
কোন খারাপ স্বপ্ন দেখে জড়িয়ে ধরবে আমায়,
আমি বলব, "স্বপ্ন সোনা স্বপ্ন,এইতো আমি"
ততক্ষণে মেখে নেব জ্বরের শরীরের ঘ্রাণ
কিংবা ধরো,মাঝরাতে তোমার জ্বর বাড়ল,
তুমি আবোল-তাবোল বকা শুরু করলে
তখন তোমার কপালে জলপট্টি দিতে দিতে
আমি ঠিক খুঁজে নেব,
তোমার আবোল-তাবোলেও আমি আছি কিনা!
আমায় বড়ো স্বার্থপর মনে হচ্ছে,তাইনা?
আচ্ছা, অভিভাবক হলে ভালো লাগতো তোমার?
মানে এই ধরো, তোমার জ্বর বলে
বাজার থেকে একগাদা ফল কিনে আনলাম
সত্যি ভালো লাগতো?
তুমিতো জানো,সত্যিটা তুমি জানো
দামাল প্রেমিক আসলে খামে নয়,
ঠোঁটে করে প্যারাসিটামল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়..


লেখক:  গোলাম মোস্তফা ঈসা

সোমবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২২

জেনে নিন ইংরেজি Verb এর সাথে Ing যুক্ত করার কিছু কতিপয় নিয়ম

জেনে নিন ইংরেজি Verb এর সাথে Ing যুক্ত করার কিছু কতিপয় নিয়ম

 

আসসালামু আলাইকুম । আশা করি সকলে ভালো আছেন । আমিও আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো আছি । যাই হোক আমি বেশি কথা বাড়াতে চাই না সরাসরি পোস্টের কথাতে চলে আসতে চায় ।

অনেকেই হয়তো পোস্টের টপিক দেখেই বুঝে ফেলেছেন যে আজ আমি কোন বিষয় নিয়ে লিখতে যাচ্ছি । আজ আমি আপনাদের সাথে ইংরেজি verb এর সাথে ‘ing’ যুক্ত করার কিছু নিয়ম নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি । আশা করি সকলে আমার আজকের পোস্ট পড়বেন । ভালো লাগলে লাইক এবং কমেন্ট করবেন ।

আজকে ইংরেজি ব্যাকারণে একটি ছোট বিষয় নিয়ে আলোচনা করব । এটি অনেকের কাছে ছোট মনে হতেই পারে । কিন্তু আমাদেরকে অবশ্যয় মনে রাখতে হবে যে ছোট ছোট জিনিসগুলোই আমাদের সবথেকে বেশি ভূল যায় । তাই আমাদের সবার আগে ছোট ছোট জিনিসগুলোই শেখা উচিত ।

ইংরেজি verb এর সাথে “ing” যুক্ত করার কিছু সাধারণ নিয়ম :-

১। যদি কোন ইংরেজি verb এর শেষে একটিমাত্র ‘e’ থাকে তবে ‘ing’ যুক্ত করার সময় ‘e’ উঠে যায় এবং ‘ing’ যুক্ত হয় । যেমন :-

Come=coming
Give=giving
Have=having
Love=loving
Make=making
Write=writing

আমরা অনেক সময় write এর সাথে ing যুক্ত করার সময় Writting এটা লিখি । কিন্তু প্রকৃত পক্ষে হবে Writing এটা ।

ব্যাতিক্রম নিয়ম :- কিন্তু Verb এর শেষে দুটি ‘e’ থাকলে কোন কিছুই পরিবতন না হয়েই ing যুক্ত হবে । যেমন :-

Agree=agreeing
see=seeing

২। Verb এর শেষে consonant থাকলে ও তার আগে Vowel থাকলে শেষের শব্দটি দ্বিগুণ হয় ও পরে ing যুক্ত করতে হয় । যেমন :

Beg=begging
bat=batting
get=getting
run=running
sit=sitting
travel=travelling
admit=admitting
forget=forgetting

মনে রাখতে হবে,এই জাতীয় শব্দের শেষে যেকোন শব্দ যুক্ত করলে শেষের অক্ষর দ্বিগুণ হবে এবং ঐ শব্দ যুক্ত হবে । যেমন :-

Beg+ed=begged

ব্যাতিক্রম :- Listen,visit,remember । এই শব্দগুলোর ক্ষেত্রে শেষের অক্ষর দ্বিগুণ হবে না ।

৩। Verb এর শেষে *ie* থাকলে ing যুক্ত করার সময় শেষের IE উঠে যাবে ও এর স্থলে Y বসবে এবং ing যুক্ত হবে । যেমন :-

die=dying
lie=lying
tie=tying

তো আজ আমার পক্ষ থেকে এতটুকুই ছিল । পোস্টটি আপনার কেমন লেগেছে তা জানাতে ভুলবেন না । পরবতীতে আরও ভালো পোস্ট দেওয়ার চেষ্টা করব । ধন্যবাদ ।

মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকামের উপায়গুলো

মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকামের উপায়গুলো

 

আসসালামু আলাইকুম, আজকের আর্টিকেলে আমি আপনাদের কয়েকটি ways দেখাবো, যার মাধ্যমে আপনারা ঘরে বসে টাকা ইনকাম করতে পারবেন মোবাইল ফোন দিয়ে। এবং বাংলাদেশের  অনেকেই অনলাইনে ইনকাম করে মোবাইল ফোন দিয়ে। এর জন্য আপনাকে টাকা ইনভেস্ট করতে হবে না, সম্পূর্ণ ফ্রিতে আপনিও শুরু করতে পারবেন। 

আমরা সবাই কমবেশি অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করা যায় এ বিষয়টি সম্পর্কে জানি, কিন্তু সঠিক জ্ঞান বা গাইডলাইন না থাকার কারণে আমরা কাজ শুরু করতে পারি না। অথবা অনেকের কাছে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থাকেনা, আজকের আর্টিকেলটি তাদের জন্য। কারণ কম্পিউটার বা ল্যাপটপ না থাকলেও সবার হাতে মোবাইল ফোন থাকে। আর এ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমরা খুব সহজে এই কয়েকটি পদ্ধতিতে টাকা ইনকাম করতে পারি সম্পূর্ণ ফ্রিতে। 

নিচে আমি কয়েকটি সহজ এবং সাধারন Ways দেখাবো, যার মাধ্যমে আপনারা আপনাদের মোবাইল ফোন দিয়ে খুব সহজে ঘরে বসে টাকা ইনকাম করতে পারেন।

ব্লগিং ও গুগোল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে

বর্তমানে Mobile দিয়ে সব কাজ করা যায়। এটি একটি ডিজিটাল ডিভাইস। এবং এই ডিভাইসে বর্তমানে ব্লগিং থেকে শুরু করে সব ধরনের কাজই করা যায়। তাই আপনার যদি আর্টিকেল লেখা অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে আপনি খুব সহজেই আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি দিয়ে ব্লগার এর মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন সম্পূর্ণ ফ্রিতে। এবং তারপর শুধু একটি ডোমেইন ক্রয় করে আপনি এই ওয়েবসাইটটি কে গুগল এডসেন্সে এপ্লাই করতে পারেন।

গুগোল অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্রভে পাওয়ার পরে আপনি এখান থেকে ঘরে বসে টাকা ইনকাম করতে পারেন আপনার মোবাইল দিয়ে। এবং বাংলাদেশের অনেকেই মোবাইল দিয়ে ব্লগিং করে গুগল এডসেন্স থেকে ইনকাম করে। 

আপনার যদি বিশ্বাস না হয়, তাহলে আপনি নিজের আর্টিকেল দেখতে পারেন পারেন। কারণ নিচের আর্টিকেলে ব্লগিং ব্যবহার করে গুগল এডসেন্স ইনকামের প্রমান দেখানো হয়েছে। আর্টিকেলটি আপনি সবার নিচে খুঁজে পাবেন।

ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস এর মাধ্যমে

আপনি আপনার মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার মাধ্যমে  অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে পারেন। আমি উপরে বর্ণনা করেছি যে আপনি আপনার মোবাইলের মাধ্যমে ব্লগিং করে ইনকাম করতে পারেন। 

ব্লগিং এর এ কাজগুলোকে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসেও করা যায়। আপনি যেহেতু এই সমস্ত কাজ গুলি মোবাইলের মাধ্যমে করতে পারবেন, তাই আপনি মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং কাজ ও করতে পারবেন।

মোবাইল এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন, এবং সেই একাউন্টে আপনি উপরোক্ত কাজগুলো করে দেওয়ার মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারেন। 

এবং এর জন্য আপনার কোন টাকার প্রয়োজন হবে না, সম্পূর্ণ ফ্রি-তে আপনি কাজটি করতে পারেন। মোবাইল এর মাধ্যমে সোশ্যাল মেডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি খুব সহজে পরিচালনা করা যায়। ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মে এমন অনেক কাজ রয়েছে মিডিয়ায় সম্পর্কিত। তাই আপনি আপনার আইডিয়া কে একটু কাজে লাগিয়ে মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারেন।

মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করতে চাইলে নিচের আর্টিকেলগুলো আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ:

আশা করি আপনারা সম্পূর্ণ বুঝেছেন। আর্টিকেলটি সম্পন্ন করার জন্য ধন্যবাদ। ভালো লাগলে অথবা কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আবারো ধন্যবাদ সবাইকে 

স্প্যাম কাকে বলে? স্প্যাম থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়:

স্প্যাম কাকে বলে? স্প্যাম থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়:

 

আমার আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে স্প্যাম সম্পর্কে। আমরা যারা ইন্টারনেট  ব্যবহার করি, তারা সবাই কম বা বেশি স্প্যাম শব্দটা শুনে থাকি।  বর্তমানে এই স্প্যাম শব্দ টা সচরাচর বেশি শোনা যায়। সুতরাং আজকে আপনাদের সাথে আমি আলোচনা স্প্যাম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো । তো চলেন কথা না বলে শুরু করি।

দিন দিন ইন্টারনেটের উন্নতি হচ্ছে তার সাথে ইন্টারনেটের বিভিন্ন অপরাধ যুক্ত হচ্ছে। স্পাম হচ্ছে তার মধ্যে একটি অপরাধ। তাই আমি আজকে আপনাদেরকে স্প্যাম কাকে বলে এবং এ সম্পর্কে কিছু ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব। নিচে তা বিস্তারিত ভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:

নতুনদের একটি কমন প্রশ্ন হচ্ছে,

স্প্যাম কাকে বলে?

স্প্যাম হচ্ছে একটি ইংরেজী শব্দ। এর বাংলায় কোন অর্থ পাওয়া যায় নাই। কিন্তু ইংরেজি অর্থ অনুযায়ী স্প্যাম এর সংজ্ঞা হল ইন্টারনেটের কোন অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রাসঙ্গিক বা যুক্তিহীন কোন তথ্য। আমি যদি আরো বিস্তারিত ভাবে বলতে চাই, তাহলে স্প্যাম হলো আমরা যখন ইন্টারনেট এর মাধ্যমে কোন অনাকাঙ্খিত তথ্য বা মেসেজ ছড়িয়ে দেই তাকে স্প্যাম বলে।

স্পামিং বিভিন্ন মাধ্যমে করা হয় যেমন ইন্টারনেট ব্যাবহার করে ইমেইল, মেসেঞ্জার, ফোরাম, সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদি মাধমে। আর যারা স্প্যাম এর কাজগুলো করে থাকেন, তাদেরকে স্প্যামার বলা হয়।

স্পামিং একটি বড় ধরনের অপরাধ। প্রথম প্রথম শুধু ইমেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন জিনিস প্রচার এর জন্য স্পামিং বলা হতো। কিন্তু বর্তমানে স্পামিং বিভিন্ন অপরাধমূলক ও জালিয়াতি কাজে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্পামিং করার প্রধান কারণ গুলো কি?

স্পাম একটি বড় অপরাধ কারণ এর মাধ্যমে কিছু অপরাধ চক্র গুলো বিভিন্ন নিষিদ্ধ লিংক শেয়ার করে মানুষের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। স্প্যাম এর মাধ্যমে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য থেকে শুরু করে অনেক কিছু চুরি হতে পারে সুতরাং স্পামিং লিংক শেয়ার অথবা ক্লিক করা থেকে সাবধান।

আমরা অনেকেই জানি না স্প্যামিং কিভাবে হয়ে থাকে। তাই এই বিষয়ে আমি এখন বিস্তারিতভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করব।

স্প্যামিং করার জন্য অনেক প্রকারের উপায় বা মাধ্যম রয়েছে। আমরা অনেক সময় ফেসবুক ব্যবহার করার সময় মেসেঞ্জারে বিভিন্ন ধরনের ভুয়া মেসেজ বা আকর্ষিত খবর দেখতে পাই। যা অনেক সময় মানুষকে আশ্চর্য করার জন্য ব্যবহার করা হয়। আর এই সমস্ত মেসেজ বা খবর এর মাধ্যমে তারা অনেক সময় কিছু লিংক ব্যবহার করে যে লিঙ্কগুলি খুবই ক্ষতিকর। আপনি যদি তাদের মেসেজ দেখে সেই সমস্ত লিংকে ক্লিক করেন তাহলে আপনার প্রয়োজনীয় বা অতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট বা হ্যাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

স্পামিং থেকে রক্ষা পেতে:

স্পামিং করার বড় উদ্দেশ্যই হচ্ছে বড় হ্যাকাররা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করা। সুতরাং আপনার কাছে যদি এরকম কোন নিউজ বা কোন মেসেজ আসে, তাহলে সে সম্পর্কে আপনাকে আগে গবেষণা করতে হবে। অবশ্যই স্প্যাম লিংকে ক্লিক করবেন না। এতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হতে পারে।

আপনি যখন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত খবর বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোন অফার পাবেন, আগেই সেই অনাকাঙ্ক্ষিত অফারের লিংকে ক্লিক করবেন না। এটা সত্য কিনা ভুয়া তা আগে খুঁজে বের করুন। যদি আপনার কাছে মনে হয় এটা সত্য তাহলে সেই লিঙ্কে ক্লিক করবেন।

উপসংহার:

স্পাম বড় বড় কোম্পানির ডোমেইন এর সাথে মিল রেখে ডোমেইন কিনে সেই ডোমেইন দিয়ে বেশি করা হয়ে থাকে। কারণ বড় বড় কোম্পানির যখন বড় অফার দেয় তা আমরা সবাই নিতে চাই, তাই যারা স্পামিং করে, তারা এই সুযোগটাই ব্যবহার করে।  সুতরাং উপহারের খপ্পরে পড়ে স্প্যাম লিঙ্ক এ আপনি ক্লিক করবে না এবং এই লিঙ্কটি শেয়ার করবেন না।

যদি এই আর্টিকেলটি ভালো লাগে তাহলে কমেন্ট করে জানান। 


আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ভুল ত্রুটি মার্জনীয়।

মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর, ২০২১

মিথ্যা অভিযোগ পর্ব ৩

মিথ্যা অভিযোগ পর্ব ৩

 

আন্টি এক হাতে,,আর মেয়েটি আমার আরেক হাতে ধরে হাটার জন্য বললো।কিন্তু আমি পা ফেলতে পারছি না।।খুব কষ্ট হচ্ছে।।প্রথম পা ফেলেই চিৎকার দিয়ে উঠলাম।।

-- আস্তে আস্তে পা ফেলো,,,,(আন্টি)

-- জ্বি আন্টি,,,

হাসপাতালের গেইটে এসে দেখে একটা প্রাইভেট কার দাড়িয়ে আছে।,,গাড়িতে করে একটা বড় বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলো,,।বাড়ি দেখে আমি ত অবাক প্রায়।।এই বাড়িটা কি আন্টির।।এরকম বড়লোক গন ত এই রকম সমস্যা যত টাকা লাগে শেষ করে দেয়।আর ওরা আমাকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসলো।শুধু মাত্র মানুষের প্রতি ভালোবাসা আছে বলেই সম্ভব।

-- আন্টি এই বাড়ি কি আপনাদের?(হা করে তাকিয়ে বললাম)

-- হুম এটাই আমাদের বাড়ি,,,,চলো ভিতরে,,,(আন্টি)

আমাকে নিয়ে একটা রুমে সুয়ে দিলো,,,।

-- আচ্ছা বাবা তুমি এখন রেস্ট নেও? আমরা পরে তোমার সম্পর্কে জানবো না হয়?(আন্টি)

-- জ্বি আন্টি?(আন্টি ও তার মেয়ে রুম থেকে চলে গেলো।)

রুমটা অনেক সুন্দর,,ওরা মানুষ যেমন ভালো মনের।রুচি ও সুন্দর। খুব ক্লান্ত লাগছে,,।সুয়ে সুয়ে ভাবছি,,
আজ যদি, ওনারা আমাকে না নিয়ে আসতো।আমি কোথায় থাকতাম?পা ভাংগা নিয়ে রাস্তায় ভিক্ষা করা ছাড়া উপায় ছিল না।।

জানি না বাড়ির কি অবস্থা,,,আম্মু কি আমার কথা ভাবছে।।আম্মু কি বলছে,,,ছেলেটা এমন ভুলে শাস্তিটা বেশি হয়ে গেলো?আমি ত আম্মুর চোখের মনি ছিলাম।
নাকি তার জন্যই আম্মু সেই কষ্ট সহ্য করতে পারেনি,,,আম্মুর মনে আমার জন্য ঘৃনা জন্মে গেছে।আম্মু যদি জানতে পারতো তার ছেলে পা ভেংগে ফেলছে।আম্মু কি এখনো রাগ করে থাকবে নাকি ছুয়ে আসবে। ।আম্মুকে দেখতে খুব মন চাচ্ছে?কিভাবে দেখবো।মোবাইলটা যে ভাংগে গেছে।।আম্মু আমি তোমাকে ভালোবাসি,,,ক্ষমা করে দিও বলতে পারি নাই সত্য কথাটা।।।

আর মনে হয় চাইলেও বলতে পারবো না,,,,মোবাইলের সাথে হয়ত ভিডিওটা হারিয়ে ফেলেছি।

খুব জানতে ইচ্ছে করছে,,,,আব্বু কি আমার কথা ভাবছে নাকি আমাকে তার মনে কবর দিয়ে ফেলেছে।
আর সুমি আপু,,হয়ত বলছে বিশ্বাস টা ভেংগে দিয়েছি।
আর মিথিলাতো বললোই দুলাভাইকে বিয়ে করে ফেলবে।।। তবে দুলাভাই কি এই ভুলটা আবার করবে?আমি ত ভিডিওটা দেখিয়েছি।হয়ত ভিডিও দেখে থমকে গেছে এতক্ষনে মিথিলাকে জানিয়ে দিয়েছে।

ভাবি হয়ত এখনো নিরবে কাদছে।বলছে বিনা দুষে আজ আমি ঘর ছাড়া। আমার খবর নেওয়ার জন্য হয়তো মোবাইলে ফোন দিচ্ছে কিন্তু বন্ধ পেয়ে হয়তো ভাবছে।ছেলেটার কি কিছু হয়ে গেলো।????

ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে যাই।।হঠাৎ ই ঘুমের মধ্যে কে যেন এসে ডাকছিল?

-- এই যে?এই যে উঠুন?(মেয়েলী কন্ঠ)

-- কে,,?(চোখ বন্ধ রেখেই)

-- আমি রিমি?(চোখ মেলে দেখি আন্টির মেয়েটা)

-- অহ আপনি?আপনার নাম রিমি?(আমি)

-- হুম ইয়া জাহান রিমি।।আপনার নামটা ত জানা হলো না।আপনার নাম কি?(রিমি)

-- হৃদয় আহম্মেদ।(উঠে বসলাম)

--সুন্দর নাম আম্মু আপনার জন্য খাবার পাঠিয়েছে খেয়ে নিন?(রিমি)

-- আপনার নাম টাও সুন্দর,,,(আমি)

-- হুম ঠিক আছে খেয়ে নিন আমি আপনার মেডিসিন গুলো নিয়ে আসছি?(রিমি)

-- আচ্ছা,,,(আমি বিছানা থেকে নামতে যাবো)

-- এই এই কি করছেন?আপনাকে ১ সাপ্তাহ হাটাহাটি করতে মানা করছে।কি লাগবে আমাকে বলুন? (রিমি)

-- ওয়াশরুমে যাবো?(আস্তে করে বললাম)

-- ধরুন আমি নিয়ে যাচ্ছি।।(রিমি আমার হাত ধরে ওয়াশরুম পর্যন্ত নিয়ে আসলো)

আমি ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে দেখি রিমি দরজার সামনে দাড়িয়ে?

-- ধরে আসুন?(মেয়েটাকে যত দেখছি অবাক হচ্ছি শহরের মেয়ে আর এত ধনী ঘরের মেয়ে হয়েও মনে কোনো হিংসা নাই)

বিছানায় বসে,,,

-- আমার জন্য আপনাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমি আপনাদের এই ঋন শোধ করতে পারবো না?(চোখের কোনে আটকে গেলো পানি)

-- ঋনের কথা বলে লজ্জা দিবেন নানা প্লিজ,,,আপনি আমার ভাইকে বাচিয়েছেন। আমরা আপনার ঋন শোধ করতে পারবো না।।(রিমি)

-- এটা তুমি কি বলছো বাবা,,,আমরা ত শুধু আমাদের কর্তব্য পালন করছি?(আন্টি তার ছেলেকে নিয়ে আসছে)

-- আসলে আন্টি এই শহরে আমার কেউ ছিল না,,।বাসা থেকে বের করে দেওয়ার পর কোথায় যাবো।এটাই ছিল আমার বড় চিন্তা।তার উপর যখন পা ভেংগে গেলো।তখন ত রাস্তায় বসে ভিক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।।আপনারা আমাকে থাকার জন্য জায়গা দিলেন। আমার সেবা করছেন।।( বলতে বলতে চোখ বেয়ে পানি পড়ছিল)

-- কেদো না বাবা,,,জানি না তোমার সাথে কি হয়েছে।।এখন খাবার টা খেয়ে মেডিসিন খেয়ে নেও।।পরে সুনবো তোমাকে দেওয়া অপবাদের কথা(আন্টি আমার চোখের পানি মুছে দিয়ে)

খাবার টা খেয়ে,,নিলাম। রিমি আমাকে মেডিসিন দেখিয়ে দিল।মেডিসিন খেয়ে নিলাম।পেটে অনেক ক্ষুধা ছিল।।আন্টি চলে গেছে।।

-- আচ্ছা একটা কথা বলবো?(রিমিকে বললাম)

-- হুম বলেন?(রিমি)

-- আপনাদের বাসায় আর কে কে থাকে?(আমি আসলে রিমির আব্বুর কথা জানতে চাচ্ছিলাম)

-- আম্মু,,আব্বু,,আমি,আর আমার ভাই।,,আর বিভিন্ন কাজে হেল্প করার জন্য কয়েক্টা কাজের লোক।।(রিমি)

-- অহ আচ্ছা আপনার আব্বুকে ত দেখলাম না?(আমি)

-- আব্বু ব্যবসার কাজে বাহিরে গেছে আসতে ১০,,১২ দিন লাগবে?(রিমি)

-- আপনার আব্বু যদি দেখে আমাকে বাসায় তুলেছেন রাগ করবে না?(আমি)

-- না,,কারন আব্বু যখন সুনেছে আমার ভাইকে বাচাতে গিয়ে আপনার পে ভেংগে গেছে।আব্বু বলেছে আপনাকে বাচাতে যা করতে হয় তাই করার জন্য।।(রিমির কথা সুনে মনে হলো এই পরিবারের সবাই একেক্টা রত্ন)

-- আচ্ছা আপনি ঘুমান পরে কথা হবে?(রিমি)

-- আচ্ছা,, ঠিক আছে।।।

তার পর ঘুমানোর চেস্টা করলাম, রাত তখন প্রায় ১১ টা বেজে গেছে।কিন্তু চোখে ঘুম আসছে না।শুধু সকালে হয়ে যাওয়া ঘটনা গুলো মনে পড়ছে।,,,,মিথিলা কি করে পারলো এমন টা করতে।।মিথিলা ত আমাকে বেস্ট ফ্রেন্ড বলতো।
অনেক রাত হয়ে যায় ঘুম হয় না।।।কখন ঘুমিয়ে যাই জানি না।।।সকালে ঘুম থেকে উঠি,,রিমির ডাকে?

-- এই যে উঠেন ১০ টা বাজে,,,নাস্তা খেয়ে মেডিসিন খেতে হবে।।(মনে হচ্ছে ওরা আমার সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছে)

-- অহ,,,কেমন আছেন?(আমি)

-- আলহামদুলিল্লাহ,,, আপনার,,,পায়ে ব্যাথা কমেছে?(রিমি)

-- মনে হয় কমেছে?

-- আসুন ওয়াশরুমে এগিয়ে দিয়ে আসি?(রিমি)

-- ধন্যবাদ,, (আমাকে ধরে ওয়াশরুমে নিয়ে যায়।।ফ্রেশ হবার পর নিয়ে আসে।)

নাস্তা খেয়ে,,মেডিসিন খেয়ে নেই।।

-- আচ্ছা আপুনার সাথে কি হয়েছিল?(রিমি)

-- সুনতে চান,,,নিজেকে হয়ত কন্ট্রোল করতে পারবেন না।।তাহলে সুনুন,,

আজ সকালে কলেজে যাবার জন্য আমার চাচাতো বোন মিথিলাকে ডাকতে যাই।।কিন্তু মিথিলার রুমে গিয়ে দেখি,,মিথিলা,,তার দুলাভাইয়ের সাথেই অবৈধ মেলামেশা করছে।আমি বাকরুদ্ধ হয়ে যাই।মোবাইলে ভিডিও করতে থাকি তাদের আরালে।আমাকে দেখে ওরা থমকে যায়।(১ম পর্বের ঘঠনা টা সবটা বললাম)

রিমি আমার মিথ্যা অপবাদ সুনে চোখের পানি ফেলছে।।

-- আপনি প্রমান থাকা সত্ত্বেও কাউকে কিছু বলেন নি?শুধু আপনার আপুর সংসার।আর যে আপনাকে ধর্ষক বানালো তার সম্মানের জন্য।নিজেই সম্মান হারিয়ে আসলেন।।(রিমি কান্না করছে আর বলছে)

-- আমার সম্মান হয়ত তাদের কাছে কমে গেছে কিন্তু নিজের ভিতর নিজেকে নিয়ে গর্ব হচ্ছে। অন্যের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিলাম।হয়ত কোনো একদিন ওরা বুজতে পারবে?(আমি)

-- আল্লাহ তাদের সহিহ বুজ দান করুক।।

-- আমি এটাই চাই,,,আমি হয়ত যেকোনো ভাবে চলে যেতে পারতাম।কিন্তু ওরা হারাতো ওদের অর্জন করা সম্মান গুলো।

-- আপনার ভাবি ত অনেক ভালো মানুষ আপনার উপর বিশ্বাস ছিল,,,তাই ত আবার আপনাকে জিজ্ঞাস করেছে।।(রিমি)

-- হুম ভাবি আমাকে নিজের ভাইয়ের মতো ভালোবাসে।।ভাবিকে ভিডিও দেখিয়ে প্রমান করেছি আমি নির্দোষ। ভাবি সবাইকে বলতে বলেছে কিন্তু বলার হলে ত আমিই বলতাম( আমি)

-- হুম তাই।।(রিমি)

-- আপনার মোবাইলটা দেওয়া যাবে,,,ভাবির সাথে একটু কথা বলবো?হয়ত আমাকে ফোনে না পেয়ে চিন্তা করছে।।।(আমি)

-- হুম নিন।। (রিমি আমার হাতে মোবাইল টা দিল)

আমি ভাবির নাম্বারে ফোন দিলাম।কিন্তু রিসিভ করেছে ভাইয়া,,,,

চলবে,,,

মিথ্যা অভিযোগ পর্ব ২

মিথ্যা অভিযোগ পর্ব ২

 

ভাবির চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে।ভাবি আমার হাতে অনেক গুলো টাকা দিয়ে বলে টাকার দরকার পড়লে যেন ভাবিকে জানাই।।।ভাবি চোখ মুছে আমার রুম থেকে বের হয়। কিন্তু আমার চোখের পানি জোরায় না।রুমটার প্রতি মায়া লাগছিল।।আম্মুর পায়ে একবার সালাম করতে মন চাচ্ছিল কিন্তু সেই সাহস আজ আমার নেই।সবাই আমার চলে যাওয়া দেখছে।ভাবি সবার চোখের আরালে বার বার চোখ মুছছে?

১২টার বাসে রওনা দিলাম ঢাকার উদ্দেশ্যে,,,
কিন্তু কোথায় গিয়ে উঠবো,,ঢাকা গিয়ে কি করবো?খুব চিন্তা হচ্ছিল।কারন ঢাকা আমি ভালো করে চিনি না।আর কোনো আত্মীয় স্বজন নাই যে সেখানে গিয়ে উঠবো। ভাবির দেওয়া টাকা গুলো গুনলাম ৫০০০ টাকা আছে এখানে।আর আমার পকেটে ৭৮০টাকা।ভাবি যদি টাকা না দিতো তাহলে ত ২ দিন বেচে থাকা কষ্টকর হয়ে যেত।।এমনে কোনো কাজও জানি না।

সবে মাত্র কলেজে পা দিয়েছি।আব্বুর টাকার অভাব নাই।যার জন্য লেখাপড়াটাই করেছি মন দিয়ে। পরিবারের সবাই আমাকে অনেক ভালোবাসতো।আমার কোনো দুষ ছিল না।শুধু একটাই দুষ আমি মিথিলাকে পাগলের মতো ভালোবাসতাম।। যখন থেকে বুজতে শিখেছি তখন থেকেই মিথিলাকে ভালোবাসতাম আমি।একসাথে স্কুলে যাওয়া খেলাধুলা করা।আমরা ছিলাম বেস্ট ফ্রেন্ডের মতই।কিন্তু যখন মিথিলাকে স্কুলের এক বড়ভাই ফলো করতে শুরু করে।আর মিথিলা যদি সম্পর্কের জড়িয়ে যায় সেই ভয়ে সুমি আপুর বিয়ের দিনই প্রপোজ করি মিথিলাকে।

কিন্তু মিথিলা সাথে সাথে এই কথা আমার আব্বুকে এসে বলে দেয়। আব্বু আমাকে সেদিন অনেক মারে।।
তখন নবম শ্রেনীতে উঠেছি মাত্র।।আমার আর বিয়ে খাওয়া হলো না।।আব্বুর হাতের মাইর সেদিন প্রথম খেয়েছিলাম।আব্বু বলেছিল মিথিলাকে যেন নিজের বোনের মতই দেখি।।আমার মাইর দেখে মিথিলা অনেক হেসেছিল। কিন্তু মিথিলার প্রতি রাগ আসে নি আমার।,,

বিয়ের দিন সুমি আপুর সাথে যাওয়ার জন্য বলেছিল আপু।আমিও প্রিপেরেশন নিয়ে রেখেছিলাম।কিন্তু আমার আর যাওয়া হলো না।।মিথিলাই গেলো।আব্বক আমাকে মাইরের কারন টা শুধু ভাবিই জানতো।আর সবাই জেনেছে দুস্টুমির জন্য মেরেছে।অনেকে আব্বুকে রাগ দেখিয়ে বলেছিল। দুষ্টুমির জন্য কেউ এমনে মারে।আর বিয়ের দিন ফাইজলামি করবে না তো কবে করবে?

আপুকে আনার জন্য গিয়েছিলাম,,।আপু না যাওয়ার কারন কি জানতে চেয়েছিল কিন্তু কিছু বলি নাই।।।তবে মিথিলার মনে যেন আনন্দের জোয়ার বইছে।নতুন দুলাভাইয়ের সাথে ভালোই খাতিল জমেছে।।আমার খুব ভালো লাগলো বড় ভাইয়ের অভাবটা দুলাভাইকে দিয়েই পুরন করুক।

আপুকে নিয়ে বাসায় আসলাম,,,দুলাভাইয়ের সাথে আমারও ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে।।খুব ভালোভাবেই যাচ্ছিল দিনগুলো।

কিন্তু বার বার মিথিলাকে আমার মনের কথা বলার চেস্টা করেছি।মিথিলা বলতো আমি তোকে শুধুই ভাইয়ের মত দেখি।।।দুলাভাইকে দিয়েও বলেছিলাম অনেক বার কাজ হয় নি।।

তবে দুলাভাই আর মিথিলাকে অনেক বার একান্তে দেখেছি।মনে হচ্ছিল প্রেমিক প্রেমিকা বসে প্রেম করছে।। কিন্তু আমি তখন এইসব নিয়ে ভাবি নাই।।কারন মিথিলা,,দুলাভাই এমন না।।পরবর্তিতে এমনই হলো।।

হঠাৎ মোবাইলে মেসেজ টিউন বেজে উঠে,,,কল্পনা থেকে বাস্তবে ফিরে আসি।।মিথিলার নাম্বার থেকে মেসেজ।।কি লিখেছে?

-- আমার রুপ বের করতে গিয়ে নিজেই ধরা খেলি কেমন অভিনয় টা করলাম?(মিথিলার লেখাটা পরে চোখের কোনে জমে থাকা কষ্ট গুলো বের হতে চাচ্ছিল)

-- আমি জানি না তুই এমনটা কেন করেছিস।।তবে আমি চাইলে আমি তোদের রুপটা বের করে দিতে পারতাম।কিন্তু তোর সম্মান আর আপুর সংসারের কথা ভেবে কাউকে কিছু বলি নাই(আমি)

-- তাই নাকি,,,তর কাছে কি প্রমান আছে নিজেকে সাধু বানানোর জন্য?তবে কেন তোকে বাসা থেকে বের করেছি জানিস।যেন আমাদের সম্পর্ক আর কেউ না জানে।আর তোর কাছে যেন ছোট হয়ে না থাকতে হয়।(মিথিলা)

-- ভালো করেছিস,,,এতে আমার কোনো দুঃখ নাই।শুধু বলবো আপুর সংসারটা নষ্ট করিস না প্লিজ।।তোদের এই অবৈধ সম্পর্ক নষ্ট করে।সবাই যেমন ভাবতো তোকে সেইরকম ভাবে চল।।

-- তুই আমাকে বলবি আমি কি করবো?আমি দুলাভাইকে বিয়ে করবো?(মিথিলা)

তার পর আমি রিপ্লে দিলাম,,,কিন্তু মেসেজ সেন্ড হচ্ছে না।।।বুজতে বাকি নেই এই সিম টা নষ্ট করে ফেলেছে।।

কিন্তু আমার মনে খুব ভয় জন্মাচ্ছিল,,,আপুর সংসায় টা কি মিথিলা ধংশ করে দিবে।

তাই আমি সাথে সাথে দুলাভাইকে,,,ভিডিওটা পাঠিয়ে ছোট করে লিখে দিলাম।।

-- আমি চাইলে এই ভিডিওটা সবাইকে দেখাতে পারতাম।এতে করে আপনাদের সম্মান কোথায় যেত একবার ভেবে দেখেন। কিন্তু আমি তা করি নি।আমি না হয় এই অপবাদে ভালোভাবেই বেচে থাকতে পারবো। কিন্তু মিথিলা?মিথিলার আব্বু নাই,,আমার আব্বু নিজের মেয়ের মতো আদর করে।সেই আদর টা থাকতো না।আর মিথিলার সম্মান টা কোথায় থাকতো।
আর আপনার?আপুর চোখে সারাজিবন ধর্ষক হয়ে বেচে থাকতেন।হতে পারতো আপনাদের সংসার টা ভেংগে গেছে।আর আমাদের বাড়িতে যেই সম্মানে আছেই সেই সম্মানটা ঘৃনায় পরিনত হতো।।।।

-- তাই আপনাদের একটা সুযোগ দিলাম,,,আপনাদের এই অবৈধ সম্পর্ক থেকে সরে আসুন।।সম্মান আর আপুর ভালোবাসা নিয়ে বেচে থাকুন।মনে রাখবেন আপনার একটা ফুটফুটে বাচ্চাও আছে।(আমি মেসেজ টা দিয়ে বসে রইলাম)

বাস একটা স্টেশনে এসে থামলো।।বাস থেকে নেমে পেটে খুব ক্ষুধা লাগছিল। তাই হোটেলে গিয়ে খাবার খেয়ে নেই।। রাস্তার পাশ ধরে হাটছি।।কিন্তু এখন আমি কোথায় যাবো?কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। আব্বু আম্মুর কথা গুলো কানে বাজছিল।।(তুই আমার ছেলে না।।তোকে কোন পাপে পেটে ধরেছি।)মাগো তুমিও তোমার ছেলেকে চিনলে না।।চোখ থেকে অনবরত পানি ঝরছিল।।,, অন্যমনস্ক হয়ে রাস্তা দিয়ে হাটতেছি।।দুপুর গড়িয়ে বিকেল।

হঠাৎ ই রাস্তার মাঝখানে একটা বাচ্চাকে দেখলাম।যেকোনো মুহুর্তে গাড়িতে চাপা পরতে পারে।।আমি কোনো কিছু না ভেবে ব্যস্ত রাস্তায় নেমে গিয়ে বাচ্ছা টাকে কোলে করে রাস্তার পাশে নিয়ে যাই।।কিন্তু শেষের দিয়ে একটা গাড়ি এসে আমার পায়ের উপড় দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেয়।।আমি ব্যথায় কাতরাচ্ছি,,,, বাচ্চাটির,,,মা এসে আমাকে হাসপাতাল নিয়ে গেলো।আর একদিক দিয়ে আমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে অন্যদিক দিয়ে নিজের বেখেয়ালির জন্য বাচ্চাকে বাচাতে গিয়ে আমার এমন অবস্থার জন্য নিজেকে দুষারুপ করছে।

ডাক্তার এসে আমাকে কি যেন একটা ইঞ্জেকশন দিলো।আস্তে আস্তে আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসলো।।
চোখ খুলে দেখি পায়ে ভেন্টিস,,,বাচ্চাটি ও বাচ্চাটির মা আরেকটা আমাদেরই সমবয়সী মেয়ে পাশে দাড়িয়ে আছে। ডাক্তার এসে বললেন,,,

-- পা টা খুব ভালোভাবেই ভেংগেছে,,,,আমি উষুধ লিখে দিচ্ছি নিয়মিত খাওয়াবেন।।আর রোগীকে ১ মাস রেস্ট নিতে হবে।খেলাধুলা কোনো কাজ করতে পারবে না।১৫ দিন পর আবার দেখিয়ে যাবেন?(ডাক্তার প্রেস্কিপশন ধরিয়ে দিলেন।)

-- আমার জন্য আজ তোমার এত বড় ক্ষতি হলো,,,?(বাচ্চার মা)

-- না না আন্টি নিজেকে দুষারুপ করবেন না। এটা শুধু একটা এক্সিডেন্ট।। (আমি)

-- আচ্ছা তোমার বাসা কোথায়? তোমার ফেমিলির কারো নাম্বার থাকলে দেও,,।আমি তোমার মা,,বাবাকে আসতে বলি?(আন্টি)

-- আমার মোবাইলটা? (মোবাইলটা খুজে পাচ্ছিলাম না)

-- তোমার মোবাইল রাস্তায় পরে ভেংগে গেছে,,,?(মোবাইল্টা আমার হাতে দিয়ে।।)

এটা ত একেবারে গেছে,,,মোবাইলটা হাতে রেখে,,,
পকেট থেকে ভাবির দেওয়া টাকাটা বের করে..

-- আন্টি হাসপাতালে কত টালা বিল এসেছে জানি না।আমার কাছে এই কয়েকটা টাকা আছে।গ্রাম থেকে আসার সময় নিয়ে এসেছিলাম।এটা রাখেন প্লিজ(টাকাটা বাড়িয়ে)

-- কি করছো তুমি এইসব?আমার ছেলেকে বাচাতে গিয়ে তোমার এই অবস্থা আর তুমি আমাকে চিকিৎসার খরচ দিচ্ছ।।(আন্টি টাকাটা পকেটে ডুকিয়ে দিয়ে)

-- তোমার,,পরিবারে কেউ নেই,,তাদের ত খবর দিতে হবে?(আন্টি)

-- আছে,,আব্বু, আম্মু,ভাই,ভাবি,চাচি,চাচাতো বোন,,।কিন্তু এখন আমি ওদের কেউ না। (বলতেই চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে আসলো)

-- তাহলে আপনি যাবেন কোথায়?(মেয়েটি)

-- জানি না,,আজ সকালেই বাসা থেকে বের করে দিয়েছে আমাকে।একটা মিথ্যা পাপের অপরাধে।।(আমি কান্না করছিলাম)

-- আচ্ছা তাহলে তুমি আমাদের বাসায় আসো?তোমার এখন রেস্টের দরকার।(আন্টি)

-- না আন্টি এটা কি করে হয়,,,উপকার করেছি বলে আপনাদের বাসায় গিয়ে উঠবো। আপনাদের বাড়তি ঝামেলা হবে?(আমি চোখ মুছে বললাম)

-- চুপ করেন?এত ভালো মানুষ সাজার দরকার নাই।আমার ভাইকে বাচিয়েছেন।এখন আপনাকে বাচানোর দায়ীত্ব আমাদের চলুন?(মেয়েটি)

-- হুম চলো উঠো,,,(আন্টি আমার এক হাত ধরে তুললেন)

-- আন্টি আমার ব্যাগটা কই?(আমার কাপড়ের ব্যাগ)

-- আমরা ত তোমার ব্যাগ দেখি নাই।মনে হয় কেউ নিয়ে গেছে।(আন্টি)

আন্টি এক হাতে,,আর মেয়েটি আমার আরেক হাতে ধরে হাটার জন্য বললো।কিন্তু আমি পা ফেলতে পারছি না।।খুব কষ্ট হচ্ছে।।প্রথম পা ফেলেই চিৎকার দিয়ে উঠলাম।।

-- আস্তে আস্তে পা ফেলো,,,,(আন্টি)

চলবে।।।।।

May be an image of 1 person
মিথ্যা অভিযোগ  পর্ব ১

মিথ্যা অভিযোগ পর্ব ১

 

আমার চাচাতো বোন মিথিলাকে কলেজে যাওয়ার জন্য খুজতে যাই মিথিলার রুমে।রুমে যেতেই দেখি মিথিলা তার দুলাভাইয়ের সাথে অন্তরঙ্গ মুহুর্ত পার করছে।।মিথিলা প্রায় অর্ধ উলঙ্গ আর দুলাভাই শুধু শর্ট পেন্ট। তাদের প্রেমলীলা দেখে আমি থমকে যাই। এটা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না আমি।আমি মিথিলাকে ভালোবাসি এটা মুটামুটি বাড়ির সবাই জানে। এই কারনে কত যে মাইর খেয়েছি তার কোনো হিসাব নাই।আমাকে বরাবর বলে দিয়েছে মিথিলাকে নিজের বোনের মতো দেখার জন্য।

আমি মিথিলাকে এমন অবস্থায় দেখে নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না।।

-- ছিহ, ছিহ মিথিলা এইসব কি দেখছি?আর দুলাভাই আপনি কি করে পারলেন এটা করতে?(আমার আওয়াজ সুনে যেন ওদের মাথায় আকাশ ভেংগে পরছে)

হৃদয় প্লিজ কাউকে বইলো না প্লিজ,,,কাউকে বললে আমাদের মানসম্মান থাকবে না?(দুলাভাই)

ওনি সুমি আপুর স্বামী,,,দেখতে স্মার্ট,, আর অনেক বড় চাকরি করে।সুমি আপু হলো মিথিলার বড় বোন।আপু সকালে তার বাচ্চাকে ডাক্তার দেখাতে গেছে। সাথে চাচিও গেছে।চাচা নাই মারা গেছে ৩ বছর হয়।আব্বুই দুই পরিবারের প্রধান। আব্বুও চাচা মিলে একইরকমের দুইটা দুতলা বাড়ি করে। সুমি আপুর বিয়ে হয়েছে ২ বছর।একটা ৬ মাসের মেয়ে বাচ্চাও আছে। আপুকে আব্বুই বিয়ে দেয়।।বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই হয়।দুলাভাই আমার হিরেরটুকরা বাড়ির সবাই জানে।।কিন্তু তার চরিত্র যে এত খারাপ আমি নিজেও ভাবতে পারছি না।

আর মিথিলা? মিথিলা এটা কিভাবে করলো?মিথিলার মত ভদ্র মেয়ে ত তিন গ্রাম খুজেও পাওয়া যাবে না।মিথিলার সৌন্দর্য পরিবারের লোকজন ছাড়া বাহিরের কেউ দেখে নাই।হাত মৌজা।পা মৌজা বোরকা পরে পর্দার সাথেই সব সময় চলাচল করে।কিন্তু আজ সেই মিথিলার একি হাল দেখছি??

-- চুপ করেন আপনি?লজ্জা করে না আবার কথা বলেন?আর মিথিলা তুই না পর্দা করিস,,,কোনো পর পুষের সামনে যাস না।এই তর পর্দার আরালে আসল চেহারা?(আমার কথা সুনে মিথিলা কিছু বলছে না নিজেকে ঢেকে কেদে যাচ্ছে)

-- তোর জন্য তো পুরো পর্দানশীন নারীদের সম্মান নষ্ট হলো।কি দরকার ছিল পর্দা করার পতিতা পল্লিতে গেলেই ত পারতি?(এই মিথিলাকে যখন আমি বলতাম মিথিলা আমি তোকে ভালোবাসি।তোর জন্য সব করতে পারবো।তখন মিথিলা আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলতো।।আর আব্বুকে বলে আমাকে মাইর খাওয়াতো)

হৃদয়,,,কাউকে বলিস না প্লিজ?(মিথিলা কান্না করতে করতে)

-- মিথিলা আমি যখন তোকে ভালোবাসি বলতাম,,তুই আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলতি আব্বুর কাছে মাইর খাওয়াইতি।আজ তোর আসল রুপ টা দেখুক সবাই।।আর দুলাভাই আপনাকে আর কি বলবো?(

আমি রুম থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলাম।ওদের কে যতই বলি রুপ দেখিয়ে দিব কিন্তু সুমি আপুর সংসারটার কি হবে? আর একটা ৬ মাসের মেয়েও আছে তাদের।আর মিথিলাতো আমার চাচাতো বোনই। যাকে আমি ভালোবাসি।তাকে সম্মান কি করে নষ্ট করি।)

-- দুলাভাই আপনি এখনো এখানে বসে আছেন?(দুলাভাই মাথা নিচু করে বসে ছিল)

আমার কথা সুনে,,,দুলাভাই রুম থেকে বের হয়ে যায়।,,

-- মিথিলা অন্তত তোর কাছে এটা আশা করি নাই।কাজ টা কিন্তু বেশি ভালো করিস নাই।।(বলে যখন রুম থেকে বের হতে যাবো দরজা আটকানো)

মিথিলা চিল্লাতে শুরু করে দিছে,,

হৃদয় আমাকে ছেড়ে দে প্লিজ।আমার এত বড় সর্বনাশ করিস না প্লিজ।। আমি তোকে ভাইয়ের মতোই ভাবি।ridoy না প্লিজ,,,(মিথিলার কান্ডে আমি বাকরুদ্ধ।। সেই সুযোগে মিথিলা ভিতর থেকে দরজা আটকিয়ে নিয়েছে!)

আমি কথা বলতে পারছিলাম না।গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছে না।মনে হচ্ছে হাত,পা সব বেধে রেখেছে কেউ।।

হৃদয় তুই আমার এত বড় সর্বনাশ করিস না প্লিজ আমি তোর পায়ে পরছি।।।।(মিথিলা তার কাপড় চোপড় ছিরতে লাগলো।প্রায় অনেক অংশ ছেড়ে ফেলছে)

--অনেক কষ্টে মুখ থেকে বের করলাম,,,মিথিলা কি হচ্ছে এইসব?(আমি)

-- কেউ,,বাচাও রিদয়ে প্লিজ,,,আ,,,,(মিথিলা অনেক জোরে চিল্লাচ্ছে)

আমি যেখানে ছিলাম সেখানেই দাড়িয়ে আছি,,,।মিথিলার এমন কান্ডে শরিরের শক্তি হারাই ফেলছি।

বাহির থেকে দরজা ধাক্কাতে লাগলো দুলাভাই।আর দরজা খুলার জন্য চিল্লাতে লাগলো।
দুলাভাইয়ের চিল্লানি সুনে আব্বু,আম্মু,ভাইয়া,ভাবি সবাই মনে হয় চলে এসেছে।

জোরে দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে দরজা ভেংগে ফেলে সবাই।দরজা খুলতেই মিথিলা আব্বুর পিছনে গিয়ে লুকায়,,,।মিথিলার কাপড় চোপড় ছেড়া দেখে আন্তাজ করে ফেলেছে মিথিলার সাথে খারাপ কিছু হতে যাচ্ছিল।।

মিথিলা ন্যাকা কান্না করছে,,, মিথিলাকে ভাবি আগলে নেয়।আর সবাই আমার দিকে অগ্নি চুক্ষু দেখাতে লাগলো?

আব্বু আমার সামনে এসেই ঠাস,,,ঠাস কয়েকটা চর বসিয়ে দেয়। ভাইয়া এসেও অনেকটা চর মেরেছে।আমি কিছু বলতে যাবো সেই সুযোগ নাই।সব কিছু এত দ্রুত হচ্ছিল।

-- মিথিলা ridoy তো তোমাকে কলেজে যেতে ডাকতে আসছিল?তোমাকে এত খারাপ অবস্থায় দেখা যাচ্ছে,কেন?ridoy কি তোমার সাথে কিছু করেছে?(ভাবি হয়ত বিশ্বাস করতে পারছে না।আমার মত ছেলে এমন একটা কাজ করবে)

-- ভাবি আমি সুয়ে ছিলাম।ridoy এসে আমাকে একা পেয়ে আগের মতো ভালোবাসার প্রস্তাব দেয়।আমি বড় আব্বুকে জানাবো বলাতে ridoy আমাকে বলে আমি নাকি অনেক মাইর খাওয়াইছি।তাই আজ আমার ইজ্জত কেড়ে নিবে।।তার পর ridoy আমার সর্বনাশ করতে থাকে।আপনারা না আসলে আজ ridoy আমার কি যে করতো?(মিথালা ভাবিকে জড়িয়ে ধরে নেকা কান্না কাদছে)

মিথিলার কথা অবিশ্বাস করার কোনো কারনই নাই। আগেই বলেছি তিন গ্রাম খুজেও এমন মেয়ে পাওয়া যাবে না।

আব্বু মিথিলার কথা সুনে যেন আরো রেগে গেলেন?

--তুই আমার ছেলে ভাবতেই লজ্জা লাগছে।যে নিজের চাচাতো বোনের সাথে এমন করতে পারে সে অন্য মেয়েদের কি না করবে?তোর এইবাড়িতে কোনো জায়গা নেই।বের হয়ে যা এই বাড়ি থেকে?(আব্বুর কথা সুনে চোখ বেয়ে পানি পরছে।)

-- আব্বু আমি কিছুই করি নাই?(মাথা নিচু করে কান্না করতে করতে বললাম)

-- অই তুই আমাকে আব্বু বলবি না।আজ থেকে আমার একটা ছেলে তুই মরে গেছিস।(আব্বুর মুখে এই কথা সুনার থেকে মরে যেতে পারলেও অনেক সুখের হতো)

-- আম্মু,,আমি কিছু করিনাই,,মিথিলা,,(কথা আটকিয়ে দিয়ে)

-- তুই আমাকে আম্মু বলবি না,,জানিনা কোন পাপে তোকে পেটে ধরেছিলাম।(আম্মু কেদে কেদে)

আম্মুর মুখে কথা সুনে মনে হচ্ছে কলিজা ছিড়ে যাচ্ছে।

আর কাকে বলবো যেখানে আমার গর্ভধারিণী মা বিশ্বাস করে না।আমাকে কিছু বলতেও দেয় নাই।।

আমি দুলাভাইয়ের দিকে তাকালাম,,,মুখে পৈচাছিক হাসি।,,আর মিথিলা এখনো ন্যাকা কান্না করছে।।

সুমি আপুও চলে এসেছে।যার আদরে আমার বড় হওয়া।যেই আপুটা আমাকে আপন ভাইয়ের মতো ভালোবাসে। আমাকে এখনো মুখে খাবার তুলে খাইয়ে দেয়।।সেই আপুটা সব কিছু সুনে,, কান্নায় বুক ভাসাচ্ছে।। আজ আমি আপুর চোখেও খারাপ হয়ে গেলাম।।

মিথিলার রুম থেকে বের হয়ে,,,আমার রুমে গিয়ে কাপড় চোপড় গোছাচ্ছি কারন এই বাড়িতে আমার জায়গা নেই।আর আমি কোন মুখে থাকবো এখানে যেখানে সবাই আমাকে ধর্ষক বলে জানে।

কাপড় গোছানো শেষ,,রুম থেকে বের হবো এমন সময় ভাবি আমার রুমে আসলো।ভাবিকে দেখে আমি মাথা নিচু করে দাড়িয়ে ছিলাম।
কারন ভাবি আমার মায়ের মতো আদর করে।আমার টাকা পয়সার অভাব ভাবিই পুরন করে।ভাবি সুমি আপুর মতই আমার একটা বড় আপু।

-- এটা তুমি কি করলা ridoy,,?আমরা তো মিথিলার সাথে তোমার বিয়ে দিতে রাজি ছিলাম আব্বুকে না হয় আমরা বুজিয়ে নিতাম।তার জন্য জোর করে?(ভাবি)

--ভাবি আমাকে মাফ করে দিও আমি পারি নাই সবার সামনে সত্য টা বলতে?(কান্না করছিলাম)

-- কি সত্য বলতে পারো নাই?(ভাবি)

-- ভাবি কথা দেন কথা গুলো কাউকে বলবেন না?(ভাবির কাছে কথা নিয়ে)

-- হুম,, বলো বলবো না কাউকে?(ভাবি)

-- ভাবি,,আমি মিথিলার সাথে এমন কিছুই করি নাই?(কান্না সুরে)

-- তাহলে মিথিলার কাপড় ছেড়া ছিল কেন?(ভাবি)

-- ভাবি আমি মিথিলাকে ডাকতে গিয়ে,, দুলাভাই আর মিথিলাকে পাপ কাজে লিপ্ত থাকতে দেখি।আমি তাদের অপমান করি।ভয় দেখাই বাড়ির সবাইকে বলে দিব।কিন্তু পরে আপুর সংসার,,আর মিথিলার সম্মানের কথা ভেবে থমকে যাই।।আমি রুম থেকে বের হতে যাচ্ছিলাম দুলাভাই বাহির থেকে দরজা লক করে দেয়।মিথিলা জোরে জোরে কাদতে থাকে আর কাপড় গুলো ছিড়তে থাকে। তার পর ভিতর থেকে লক করে দেয় মিথিলা। বাহির থেকে দুলাভাই দরজা ডাককাচ্ছে আর চিল্লানি সুনে তোমরা এসে আমাকে এই পরিস্থিতে 'দেখলা।।আমি কাকে বলবো এই কথা।কে বিশ্বাস করবে বলো।।(কেদে কেদে রুম থেকে বের হতে যাচ্ছি)

ভাবির চোখেও পানি,,,,ভাবি বিশ্বাস করলেও নিরুপায়।

-- কি বলছো ridoy,,,তাদের পাপের বোজা তোমার উপর চাপিয়ে দিয়েছে?(ভাবি)

-- ভাবি তুমি কাউকে বলো না প্লিজ,,,মিথিলার সম্মান।।আর আপুর সংসার নষ্ট হয়ে যেতে পারে?(আমি)

-- জানি না ridoy,,,কে মিথ্যা কে সত্য বলছে।মিথিলার,, আর সুমির জামাইর ত এমন কোনো বাজে লক্ষন দেখি নাই।।(ভাবি)

-- ভাবি তুমি আমাকে বিশ্বাস করছো না তাহলে এটা দেখো?(আমি সুযোগে সব কিছু ভিডিও করে রেখেছিলাম)
ভেবেছিলাম কাউকে দেখাবো না,,কিন্তু পরিবারের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ টার চোখে নিজেকে খারাপ বানাতে পারি নাই।।

হৃদয় এই ভিডিও এখনই আব্বুকে দেখাবো।।(ভাবি মোবাইল নিয়ে যেতে চায়)

-- ভাবি প্লিজ,,,কথা দিয়েছো কাউকে বলবা না।।সবার চোখে খারাপ হলেও তোমার চোখে যেন ভালো হয়ে থাকতে পারি তাই তোমাকে সব বললাম।।(কথা শেষ করতেই।।।।ভাইয়া ভাবিকে বলছে এই ধর্ষকের সাথে কিসের এত কথা)

ভাবির চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে।ভাবি আমার হাতে অনেক গুলো টাকা দিয়ে বলে টাকার দরকার পড়লে যেন ভাবিকে জানাই।।।ভাবি চোখ মুছে আমার রুম থেকে বের হয়। কিন্তু আমার চোখের পানি জোরায় না।রুমটার প্রতি মায়া লাগছিল।।আম্মুর পায়ে একবার সালাম করতে মন চাচ্ছিল কিন্তু সেই সাহস আজ আমার নেই।সবাই আমার চলে যাওয়া দেখছে।ভাবি সবার চোখের আরালে বার বার চোখ মুছছে?

১২টার বাসে রওনা দিলাম ঢাকার উদ্দেশ্যে,,,
নেক্সট পার্ট সবার আগে পেতে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিয়ে আইডি ফলো করে রাখেন।

চলবে,,,