--শহরের নাম করা মাস্তান রাফিদের যৌনাঙ্গ কেটে কে যেনো ইয়ামিনের ফেরেন লাভলী বিজ্ঞাপন পোস্টারের মাঝ বরাবর লটকে রেখে দিয়ে গেছে!পুরো শহরকে যেনো তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই বিষয় টা!সবাই রাস্তার মাঝে জড়োসড়ো হয়ে বিজ্ঞাপন পোস্টারের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে!কার এত ক্ষমতা বা বুকেরপাঠা যে রাফিদের মত মাস্তানের এমন দুর্ধর্ষ অবস্থা করেছে!আমি কলেজের দিকেই যাচ্ছিলাম,কিন্ত
--আরেহ ভাই দেখছেন না কি হয়েছে,শহরের নাম করার মাস্তান রাফিদের যৌনাঙ্গ কেটে কে যেনো লটকে রেখেছে ফেরেন লাভলী পোস্টারের মাঝে।শুধু তাই নয় যে এমনটা করেছে,সে তার একটা নামের ক্লোন ছেড়ে দিয়ে গেছে।যেটাতে লিখা আছে মাফিয়া গার্ল!
--লোকটার কথা শুনে থতমত খেয়ে গেলাম!
কিন্তু লোকটাকে বুঝতে দিলাম না!ভাই কে এই মাফিয়া গার্ল?তার বিষয়ে কোনো কিছু জানেন কি?
--ভাই তার বিষয়ে আমি কেন,শহরের ডিবি পুলিশরাও তার কোনো খোঁজ বের করতে পারেনি।এমন ডেঞ্জারাস এই মাফিয়া গার্ল।আগের বারো লোকাল থানার ওসিকে এই অবস্থা করে মেরেছিলো।
--ভাই তাহলে তো অনেক খাতারনাক একটা মানুষ এই মাফিয়া গার্ল!
--হ্যাঁ অনেক খাতারনাক সে।এবার আমি চললাম ভাই।কখন তার কানে পৌঁছে যায়,যে আমি তাকে নিয়ে কথা বলেছি,পরে সে আমারো এমন ভয়ংকর অবস্থা করবে!ভাই মাফ ও চাই দোয়াও চাই।এমন বিভৎস ভাবে মরার কোনো ইচ্ছে নেই আমার।তবে শেষ একটাই কথা বলি,মাফিয়া গার্ল যেটা করেছে,সেটা একদম ঠিক করেছে।কারন এই রাফিদ অনেক অত্যাচার করেছে শহরের মানুষকে।এই জালিমের মজা বুঝিয়েছে মাফিয়া গার্ল।
--লোকটা চলে গেলো।আমি এখনো সেখানে দাঁড়িয়ে আছি।আমার মাথায় খালি একটা জিনিস এই ঘুরপাক খাচ্ছে,যে এমনটা করেছে,তার আসলেই অনেক বড় বুকেরপাঠা।কে এই মাফিয়া গার্ল!নাহ এই মাফিয়া গার্লের সাথে আমি দেখা করবো।তখনি কলেজ ফ্রেন্ড শামীম ফোন দিলো।
--কিরে বেটা তুই কই রে?
তাড়াতাড়ি কলেজে আয়।
--কেন কিছু হয়েছে নাকি রে ?
--তুই কি রাফিদের বিষয়ে কিছু শুনিস নি?
--হ্যাঁ শুনেছি।আর আমি তো সেখানেই দাঁড়িয়ে আছি।
--বাপরে কি কলিজা মাফিয়া গার্লের!এমন নাম করা নেতাকে সে এই ভাবে কেলিয়ে দিল,আমার তো ভাবতেই অবাক লাগছে!আচ্ছা তুই তাড়াতাড়ি কলেজে আয়।কলেজেও এসব নিয়ে তোলপাড় চলছে,কারন রাফিদ কলেজ নেতা ছিলো।
--আচ্ছা আমি আসছি।তুই একটু দাঁড়া।
ফোন রেখে দিয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।
মাথায় এখনো মাফিয়া গার্লের বিষয় টা ঘুরপাক খাচ্ছে।মাফিয়া গার্লকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে কলেজে চলে গেলাম।কলেজে পৌঁছাতেই দেখি শামীম কলেজের গেইটে দাঁড়িয়ে আছে।
--যাক তুই এসেছিস,কিন্তু আজ নাকি ক্লাস হবে না রাফিদের বিষয়টার জন্য।
--কি এক আতংক লাগিয়ে দিল মাফিয়া গার্ল আল্লাহ!
--হ্যাঁ রে সেই রকমের আতংক ছড়িয়ে দিয়েছে মাফিয়া গার্ল।তবে একদিকে ভালোই হয়েছে।রাফিদের মতন জানোয়ারকে সেই সাইজ করেছে।অনেক উড়েছিল বেটা,এবার উড়াউড়ি বন্ধ হয়ে গেছে চিরতরে!এজন্যই বলে বেশি উড়া ভালো না।
--হ্যাঁ,রাফিদ অনেক পাওয়ার দেখাতো কলেজে।
একদম শিক্ষা দিয়ে দিয়েছে মাফিয়া গার্ল।
--আচ্ছা বাদ দে এখন ওসব কথা।চল নদীর পাড়ে গিয়ে আড্ডা দিব।
--ওকেহ চল।তারপর দুই বন্ধু মিলে চলে গেলাম নদীর পাড়ে।সেখানে গিয়ে দুই বন্ধু বসে বসে আড্ডা মারছি।হটাৎ এই নজর পড়লো আমাদের অপজিটে বসে থাকা একটা মেয়ের দিকে।সে লেপটপ নিয়ে বসে বসে কি একটা যেনো করছিলো।মেয়েটাকে
--এই আকাশ তুই ওদিকে তাকিয়ে কি দেখছিস?আমি কত সময় ধরে বকবক করে চলেছি।
--আরেহ দেখনা সামনে বসে থাকা মেয়েটার দিকে।
কেমন মগ্ন হয়ে লেপটপে কাজ করছে।
--আরেহ এতো আমাদের কলেজের রামিসা।
যে কিনা কলেজের টপার।সব সময় পড়ালেখা নিয়ে মগ্ন হয়ে থাকে।এখনো নিশ্চই লেপটপে পড়ালেখা নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে।
--শামিম তুই একটা জিনিস লক্ষ্য করেছিস মেয়েটার?
তার চুল গুলো কত লম্বা লম্বা,আর গায়ের রংটাও পুরো দুধে আলতা।
--হ্যাঁ সে আমি অনেক আগ থেকেই জানি।কারন কলেজের সবাই ওর জন্য পাগল।কিন্তু সে কাউকেই পাত্তা দেয় না। সারাদিন পড়ালেখা নিয়ে পড়ে থাকে।তার কাছে এসবের কোনো টাইম নাই।
--কিন্তু বন্ধু মেয়েটাকে দেখে না আমার ভিতরে কেমন ঘুটাঘুটি হচ্ছে!মনে হচ্ছে যেনো মেয়েটা আমার ভবিষ্যৎ বউ হবে।
--হা হা,সেই স্বপ্ন কোনোদিন এই পূরণ হবে না তোর।
কারন আমাদের মতন ছাগলের কপালে এসব মেয়ে কখনোই জুটবে না।
--আরেহ জুটবে কি জুটবে না সেসব পরে দেখা যাবে।কিন্তু এখন চল না ওর সাথে একটু কথা বলে আসি।
মনটা না কেমন যেনো ছটফট করছে কথা বলার জন্য।
--আরেহ ভাই তোর কি মনে হয় সে আমাদের সাথে কথা বলবে?
--ভাই তাও চল না প্লিজ।
--আচ্ছা চল।
--শামিমকে নিয়ে মেয়েটার কাছে চলে গেলাম।
মেয়েটার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছি ছায়ামূর্তির মতন।
কিন্তু তার যেনো আমাদের দিকে কোনো খেয়াল এই নেই।সে তার কাজে মগ্ন হয়ে আছে।
--এই দেখলি দানবের মতন দু'টো মানুষ আমরা তার সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছি,কিন্তু আমাদের দিকে কোনো খেয়াল এই নেই।রামিসা এমন এই।কারোর সাথেই কথা বলে না।
--আরেহ চুপ থাক তো।
আমি কথা বলছি দেখে থাক।আমি গলায় বড় করে কাশি দিলাম।কিন্তু মেয়েটার কোনো রেসপন্স এই দেখতে পেলাম না।মেয়েটা এখনো তার কাজে মগ্ন।
এবার শরমলজ্জা ভেঙ্গে সোজা ডাক দিলাম।এই যে শুনছেন?মেয়েটা আমার ডাক শুনে লেপটপ থেকে মাথা তুলে তাকালো।এতটা সময় মেয়েটার চেহারা দেখা যাচ্ছিলো না।কিন্তু এখন সে আমাদের দিকে তাকানোয় পুরো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে চেহারা।মেয়েটাকে
--জ্বি বলুন?
--আমি মেয়েটার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছি!আমার তো পুরো দুনিয়াদারী যেনো নিমিষেই থমকে গেলো!আমি চুপচাপ তাকিয়ে আছি মেয়েটার দিকে।তখনি সাইড থেকে শামীম ধাক্কা দিয়ে বললো...
--আরেহ আকাশ তুই কোথায় হারিয়ে গেলি হ্যাঁ?
--শামিরের কথায় হুঁশ ফিরে আসলো।না না আমি এখানেই আছি।কোথাও হারাইনি।
--না হারালে বোবার মতন ওর দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছিস যে?
শামীম কথা শেষ না করতেই পাশ থেকে মেয়েটা আবার বলে উঠলো।
--জ্বি কিছু বলবেন কি?
--না না কিছু বলবো না,আপনাকে শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবো!
--মানে বুঝলাম না!
--আরেহ মানে আপনার সাথে একটু কথা বলতে চাই।
--জ্বি বলুন বললাম তো...
--আপনার পাশে কি একটু বসা যাবে আগে?
--পাশে বসে কি করবেন,কি বলতে এসেছেন সেটা বলে প্লিজ চলে যান।আমি এখন পড়া নিয়ে একটু বিজি আছি।
--আচ্ছা থাক তাহলে অন্য একদিন বলবো।
--আচ্ছা...
--মেয়েটা আবার লেপটপে মাথা গুঁজে দিল।আর আমি বোকার মতন সেখানে ঠায় দাঁড়িয়ে আছি।আমার যেনো ভ্রম এই কাটছে না।মেয়েটাকে দেখার পর থেকে পুরোপুরি মাতাল হয়ে গেছি আমি।
--এই আকাশ চল এবার..
--না আমি যাবো না,তুই যা....
--মানে কি আকাশ,এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি করবি শুনি?
--মেয়েটাকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবো।
--আকাশ তোর মাথা কি খারাপ টারাপ হয়ে গেলো নাকি!কি সব আবোল তাবোল বলছিস হ্যাঁ?
--হ্যাঁ হয়তো হয়ে গেছে!
--ও আল্লাহ কোন পাগলের পাল্লায় পড়লাম আমি!
--আচ্ছা শামীম একটা কথা বলি?
--হ্যাঁ বল..
--আমার না মেয়েটাকে কোলে উঠিয়ে নিয়ে কাজি অফিসে দৌড় দিতে মন চাচ্ছে!ইচ্ছে করছে এখনি বউ বানিয়ে ফেলি মেয়েটাকে।
--একটা ঠাটিয়ে লাগিয়ে দিব তোর গালে বেটা ফাজিল!
চল তুই এখান থেকে।
শামীম আকাশকে টেনে সেখান থেকে নিয়ে আসলো।
--শামীম এমনটা না করলেও পারতিস,আরেকটু দেখতে দিলে কি হতো মেয়েটাকে।
--একদম চুপ তুই।কি সব পাগলামো শুরু করেছিস আকাশ।মাথার তাড় কি ছিঁড়ে গেছে নাকি তোর হ্যাঁ?
--ধ্যাঁত বেটা,তুই আমার মনের দুঃখ বুঝলি না।থাক তুই আমি বাসায় গেলাম।শামীমকে ফেলে রেখে সেখান থেকে সোজা বাসায় চলে আসলাম।বাসায় এসে ব্যাগ রেখে ওয়াশরুমে চলে গেলাম।একটু পর ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে না খেয়ে সোজা শুয়ে পড়লাম।মেয়েটাকে দেখার পর থেকে যেনো খাওয়া দাওয়ার সমস্ত রুচি উঠে গেছে আমার।বিছানায় শুয়ে শুয়ে মেয়েটার কথা ভাবতে লাগলাম।মেয়েটাকে
--আকাশ তুই কি করছিস রে?
--আরেহ ঘুমাচ্ছি।
--হ্যাঁ এমনটাই করবি।এদিকে দুনিয়াদারী পুরো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে,আর তুই পরে পরে ঘুমাচ্ছিস বেটা বদল।
--আরেহ কি হয়েছে?
--তাড়াতাড়ি ইউটিউব অপেন কর।একটা চ্যানেল থেকে মাফিয়া গার্ল লাইভে এসেছে।আমি তোকে লিংক দিয়ে দিচ্ছি।
--কিহহহহহ,তাড়াত
আর তার থেকে বড় কথা মেকানিকেল একটা অটো ভয়েস থেকে সে লাইভে এসেছে।
--দেখুন সবার উদ্দেশ্য করেই বলছি।আমাকে ধরা তো দূরের কথা,সেসব কিছু নিয়ে চিন্তা করলেও ঘাড় থেকে মস্তক আলাদা করে দিব আমি।আর আজকে লাইভে আসার উদ্দেশ্য হলো নেতা রাফিদের ব্যাপারে কিছু জানানোর আছে আপনাদেরকে।রাফিদ
তারপর ধুম করে লাইভ কেটে দিলো।
--মাফিয়া গার্লের সাহস দেখে শুধু অবাক হচ্ছি!
নাহ মাফিয়া গার্লকে যে করেই হোক আমি খুঁজে বের করবো।মাফিয়া গার্লের এই লাইভ মিনিটের মধ্যেই পুরো দেশে ভাইরাল হয়ে গেলো।এক লাইভে যেনো পুরো আতংক ছড়িয়ে গেলো মানুষের মনে।সবার মুখে মুখে মাফিয়া গার্ল আর মাফিয়া গার্ল।কে এই মাফিয়া গার্ল!সবার একটাই প্রশ্ন।একটু পর চ্যানেল আর লাইভটা কেটে দিলো মাফিয়া গার্ল।পুরো সব কিছুই সে ভেনিস করে দিয়েছে।পুরোপুরি
এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে আরো কিছু সময় চলে গেলো।নাহ এসব নিয়ে এখন আর ভাবা চলবে না।আগে গিয়ে কিছু খেয়ে নেই।বিছানা ছেড়ে উঠে পাড়লাম।তারপর হাত মুখে পানির ছিটা দিয়ে এসে কিছু খেয়ে নিয়ে আবারো ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকাল বেলা ঘুম ভাংলো ফোনের আওয়াজে।
কে যেনো কিছু একটা মেইল করেছে।ঘুমের ঘোরে ফোনটা হাতে নিয়ে মেইলটা অপেন করলাম।দেখলাম একটা ভয়েস মেইল।ভয়েসটা প্লে করলাম।
প্লে করতেই আমার পুরো হুঁশ উড়ে গেলো!আমি এক লাফ দিয়ে সোজা বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে গেলাম!মাফিয়া গার্লের সেই ভয়ংকর আওয়াজে কেউ আমায় মেইল করেছে!
চলবে?
ভুল ত্রুটি গুলো ক্ষমার নজরে দেখবেন।,সবাই সাপোর্ট করবেন আশা করি। ধন্যবাদ 💔
0 coment rios: